বিরামহীন বৃষ্টির ভোগান্তিতে চট্টগ্রামবাসী

নিম্নচাপের কারণে বিরামহীন বৃষ্টির ভোগান্তিতে চট্টগ্রামবাসী। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) চট্টগ্রামে প্রচুর বৃষ্টি হয়। এ সময় সাগর ছিল উত্তাল।
কখনো গুঁড়িগুঁড়ি, আবার কখনো বিরামহীন বৃষ্টি। এই দুই পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রামবাসীকে ভুগিয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলায় হালকা থেকে ভারী, দুই ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা এখনো রয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে যারা ঘরের মধ্যে ছিলেন, তারা তুলনামূলক নিরাপদে থাকলেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে কর্মজীবীদের। টানা বৃষ্টির কারণে গণপরিবহনের সংকট অফিসগামী মানুষদের সকাল-বিকেল দুবেলা ভুগিয়েছে। তবে ঘরের মধ্যে থেকে সবাই যে নিরাপদ ছিলেন তা কিন্তু নয়, চট্টগ্রামের এমন ২৬টি পাহাড় আছে, যেগুলোতে অসংখ্য মানুষ বসবাস করেন। সেসব পাহাড়ে ছিল ধসের শঙ্কা। এ জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাইকিং করে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চট্টগ্রামে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপের কারণে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। আকাশ মেঘলা রয়েছে।

এদিকে দিনভর হালকা ও ভারী বর্ষণের কারণে নগরবাসী পড়ে সীমাহীন ভোগান্তিতে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিসগামী ও কর্মজীবীরা পড়েন বিপাকে। নগরজুড়ে সারা দিন গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল খুবই কম। বাধ্য হয়ে অনেকে বাড়তি ভাড়া দিয়ে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গন্তব্যে পৌঁছান।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এই বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এ ছাড়া তাপমাত্রা আবারও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ২৬টি পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়েই ৬ হাজার ৫৫৮টি পরিবার বাস করে। বর্ষায় পাহাড় মরণফাঁদে রূপ নেয়। চলতি বছর চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। তবে যেকোনো এমনটি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পাহাড়ে বসবাসকারীদের দ্রুত সরে বলা হয়েছে।

এদিকে বর্ষা এলে পাহাড় থেকে সরানোর তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু বর্ষা চলে গেলে আর বসতি সরানোর জন্য কেউ মাথা ঘামায় না। সরকারি-বেসরকারি মালিকানাধীন পাহাড়গুলোতে অবৈধ দখলদাররা রাজার হালে বসবাস করছেন। দেওয়া হয় বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিটি সভায় সেবা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু কার্যত তা বাস্তবায়ন করা হয় না। ফলে দিনের পর দিন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে পাকাপোক্ত হয়ে বাস করেন অবৈধ বাসিন্দারা। আর পাহাড়ধস হলেই হারিয়ে যায় তাজা প্রাণ।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন আকমল আলী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সাগরের পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। উত্তাল সমুদ্র আর ভারী হাওয়া বইছে। তীব্র বাতাসে সি-বিচসংলগ্ন কিছু কিছু ভ্রাম্যমাণ দোকানের ছাউনি উড়িয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। ‘বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে সেখানে সতর্কবার্তা লাগানো হয়েছে। তীব্র বাতাস এবং ঢেউয়ের কারণে সৈকতের কিছু দোকান পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সাগরের ঢেউ দেখার জন্য উৎসুক জনতাকে সাগরপাড়ে ভিড় করতে দেখা গেছে।
পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় কথা হয় সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার বাসিন্দা মো. জয়নালের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ায় পতেঙ্গা এলাকায় আমার খালার বাসায় বেড়াতে এসেছি। সি-বিচ কাছে হওয়ায় খালাতো ভাইকে নিয়ে সাগরপাড়ে ঘুরছি। তবে সাগরের পরিস্থিতি ভালো না থাকায় আমরা পানিতে নামিনি।’
বঙ্গোপসাগরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়। পাহাড়ধসের পূর্বাভাস দেওয়া আছে। পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে চসিক থেকে সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পাহাড়ে মাইকিং করা হচ্ছে। জলোচ্ছ্বাস হলেও উপকুলবাসীকে নিরাপদ জায়গায় অবস্থান নিতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব মো. সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন, চট্টগ্রামে ছয় জোনে ভাগ করে পাহাড়ে বসতিদের সরে যেতে প্রচার চালানো হচ্ছে। মাইকিং করা হচ্ছে। বসতিদের সতর্ক করা হচ্ছে। পাহাড়ধসের শঙ্কা থাকায় নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে বসবাসকারীদের।