আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে চলছিল গায়ে হলুদের আয়োজন। পরদিন কনেকে স্বামীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা। এরই মধ্যে পুলিশ নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ইউএনও তাহমিনা আক্তার। কনের পিতার দেওয়া জন্মনিবন্ধন যাচাই করে দেখা যায়, কনের বয়স মাত্র ১৪ বছর। যা আইনত অপরাধ।
রবিবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ভরাচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পায় ওই কিশোরী। এসময় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কন্যার বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার নির্দেশ দেন ইউএনও তাহমিনা আক্তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ দিন আগে ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক নিকাহ সম্পন্ন হয় কিশোরীর। রবিবার রাতে গায়ে হলুদ ও সোমবার আনুষ্ঠানিক ভোজসভার আয়োজনের কথা ছিল। এর আগেই ইউএনও খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আয়োজন বন্ধ করে দেন। কনের বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ও স্থানীয় তালুকদার ক্লাবে নির্ধারিত বিয়ের আয়োজন দুটিই তিনি স্থগিত করেন।
অভিযানে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন ইসলাম, পুলিশ সদস্য ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও তাহমিনা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “গোপন সংবাদে ঘটনাস্থলে গিয়ে যাচাই-বাছাই করে বাল্যবিয়ের সত্যতা পাই। এরপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মেয়েটির পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তিনজনের জিম্মায় তাকে দেওয়া হয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোথাও এমন ঘটনা ঘটলে আমাদের জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
