ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। কোরবানির এই ঈদকে ঘিরে পশু জবাইয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কামার শিল্পীরা। গাছবাড়িয়া খাঁনহাট, দোহাজারী, দেওয়ানহাট, বাগিচাহাটসহ বিভিন্ন হাটবাজারে এখন টুংটাং শব্দে মুখর কামারপাড়া।
মঙ্গলবার (৩ জুন) উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়লার চুলায় দগদগে আগুনে লোহা গরম করে পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে দা, ছুরি ও চাপাতি। কারিগররা হাপর টেনে আগুন জ্বালাচ্ছেন, কেউ হাতুড়ি চালিয়ে দা-বঁটি তৈরিতে ব্যস্ত। ঈদের সময় এগুলো তৈরিতে এতটাই মনোযোগী যে খাওয়ার সময়ও প্রায় হারিয়ে যায় তাদের।
গাছবাড়িয়া খাঁনহাটের কামার রুবি দাশ হারাধন বলেন, ‘কোরবানির সময় চাহিদা বেশি থাকায় মজুরি বাড়ে, তাই দা-ছুরির তৈরিতে রাত-দিন কাজ করছি।’
পার্শ্ববর্তী অনামিকা হার্ডওয়ারের স্বত্বাধিকারী আশুতোষ দাশ জানান, ‘কোরবানির ঈদে দা, ছুরি ও অন্যান্য সরঞ্জামের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। আকার ও লোহার গুণমান অনুযায়ী নতুন তৈরি দা ও ছুরি ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১,৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’
খাঁনহাট এলাকার অভিজ্ঞ কামার মৃদুল কান্তি দাশ বলেন, ‘কোরবানির ঈদে অন্যান্য সময়ের তুলনায় কাজ অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু লোহার দাম বাড়ায় অনেকেই নতুন দা-ছুরি না কিনে পুরোনো সরঞ্জামে শান দিতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে নতুন দা-ছুরি তৈরি করাই আমাদের জন্য বেশি লাভজনক।’
কামার শিবু জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়লার দাম ও শ্রমিকদের মজুরি বাড়ায় খরচ বেড়েছে। তবু কাজের চাপ এত যে খাওয়ার সময়ও মেলে না। ঈদ যত কাছে আসে, বিক্রি ততই বাড়ে। সারা বছর এত কাজ থাকে না, তাই ঈদে চাপ কিছুটা বেশি।
তবে ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, এবারের বাজারে দা, ছুরি ও চাপাতির দাম অনেক বেশি।
মফিজ উদ্দিন চৌধুরী নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে দা, চাপাতি ও ছুরির দাম কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ছুরি শান দেওয়ার খরচ ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে, কাজের গুণাগুণের ওপর নির্ভর করে।’
দোহাজারীর কামারশালায় নতুন দা-ছুরি কিনতে আসা জসিম উদ্দিন জানান, কোরবানির ঈদ আর খুব বেশি দূরে নেই, তাই পছন্দমতো দা, ছুরি ও অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে এসেছি। তবে আগের তুলনায় দাম একটু বেশি।
