রিভিউ রিহ্যাবিলিটেশন সোসাইটি ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পুনর্বাসন ও নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

পতেঙ্গা ইপিজেড রিভিউ রিহ্যাবিলিটেশন সোসাইটি ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগে পতেঙ্গা বেড়িবাঁধ-সাগরিকা এলাকায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও নিরাপত্তার দাবিতে এক জরুরি শনিবার( ২৩ আগষ্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর কার্ডধারী বহু সদস্য এখনো স্থায়ী পুনর্বাসনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বছরের পর বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করলেও এই পরিবারগুলো এখনো বাসস্থানের নিরাপত্তা ও সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। বক্তারা বলেন, পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত জমি বরাদ্দের দাবিতে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও যথাযথ কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সন্ত্রাসী চক্রের দৌরাত্ম্য — জীবন নিয়ে শঙ্কায় সাধারণ সদস্যরা
সংবাদ সম্মেলনে আরও উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে বলা হয়, একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র ওই এলাকার অসহায় ও দুর্বল পুনর্বাসনপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে। কেউ এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে কমিটির সভাপতিকে প্রকাশ্যে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যেন তারা মুখ না খোলে। এতে বহু পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।

বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার নেতারা
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার সংস্থার কেন্দ্রীয় পরিচালক মোঃ হাসান মুরাদ। তিনি বলেন, “এভাবে জীবন-জীবিকা হারিয়ে বসে থাকা মানুষদের পুনর্বাসন না করে উন্নয়নের কথা বলা শুধুই আত্মপ্রবঞ্চনা।”
এছাড়া বক্তব্য রাখেন —

নুরুল আলম মোল্লা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য
আলী ফরাজি, উপদেষ্টা সচিব
হুমায়ুন কবির, মানবাধিকার সদস্য
শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, ৪০ নং ওয়ার্ড মানবাধিকার সংস্থা
একরাম, সভাপতি, ৪০ নং ওয়ার্ড মানবাধিকার সংস্থা
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও মানবাধিকারকর্মী সমিরন পাল, যিনি বলেন, “যাদের ঘর নেই, তাদের মুখ বন্ধ করতে হুমকি দিলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ। এ অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না।”
জমি বরাদ্দ ও আইনশৃঙ্খলার দাবি
সম্মেলনের শেষাংশে বক্তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান—
সিডিএ কার্ডধারী সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা,
উপযুক্ত স্থানে জমি বরাদ্দ দেওয়া,
সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা
এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বক্তারা জানান, এ দাবিগুলো না মানা হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।