লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির নেতারা একই মঞ্চে

লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির নেতারা একই মঞ্চে হাতেহাত ধরে ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন নেতাকর্মীদের।
দীর্ঘদিনের গ্রুপিং, মতবিরোধ ও কোন্দলের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একমঞ্চে এলেন লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির নেতারা। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন দুর্বল হয়ে পড়া দলটি এখন কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সংগঠনের পুনর্গঠনে একসঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

দফায় দফায় তিনটি বৈঠকের পর শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক নাজমুল মোস্তফা আমিন তার নিজ বাড়িতে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি মিলনমেলার আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আসহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দল এখন কঠিন সময় পার করছে। এই সংকটে দলের প্রতিটি স্তরে ঐক্য অপরিহার্য। এই সংকটে দলের প্রতিটি পর্যায়ে ঐক্য অপরিহার্য। ঐক্যমতে পৌঁছতে সম্প্রতি একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন লোহাগাড়ার প্রবীণ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। অতীতের মতানৈক্য পেছনে ফেলে আমরা এক প্ল্যাটফর্মে কাজ করছি। সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে শক্তিশালী কাঠামো গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অচিরেই ইউনিট ভিত্তিক পুনর্গঠন, নিষক্রিয়দের পুনঃসংযুক্তি এবং আন্দোলনমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক আহবায়ক নাজমুল মোস্তফা আমিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম খোকন চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সোহেল চৌধুরী ও জেলা বিএনপির সদস্য ফৌজুল কবির ফজলু।

নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, সামনে আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি এখন সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। আমাদের নেতা তারেক রহমান যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন, তা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত। আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। আমাদের লক্ষ্য একটাই বিএনপির বিজয়। ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী হিসেবে আমাদের কর্মসূচি থামার সুযোগ নেই। ইনশাআল্লাহ, জাতীয়তাবাদী দল বিজয়ী হবেই।

এসএম খোকন চৌধুরী বলেন, মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সম্মান জানিয়ে দ্রুত ইউনিট ভিত্তিক পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণেই দল আবার শক্তি ফিরে পাবে।

সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, দলকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে হলে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনতেই হবে। ঐক্যই হবে বিএনপির মূল শক্তি। বৈঠকে নেতারা অতীতের বিভেদ ও ব্যক্তিগত মতানৈক্য ভুলে গিয়ে দল পুনর্গঠন, ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন, নিষক্রিয়দের পুনঃসক্রিয়করণ এবং কেন্দ্র ঘোষিত আন্দোলনমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐক্য যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে লোহাগাড়ায় বিএনপি আবারও সুসংগঠিত শক্তিতে পরিণত হতে পারে। দীর্ঘদিনের কোন্দলের অবসান ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।