মহেশখালী দ্বীপের প্রবেশদ্বার গোরকঘাটায় নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আধুনিক জেটি

মহেশখালী দ্বীপের প্রবেশদ্বার গোরকঘাটায় নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আধুনিক জেটি। এটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে জেলা সদরের সাথে যাতায়াতে সুফল ভোগ করবে দ্বীপটির সাড়ে চার লাখ জনগণসহ বিপুল পরিমাণ পর্যটক। ইতোমধ্যে নতুন এ জেটির নির্মাণকাজ ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জেটিটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা সদরের সাথে মহেশখালীর যোগাযোগের দীর্ঘ ৮ কিলোমিটারের কক্সবাজার–মহেশখালী নৌ রুটে যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিল মহেশখালী দ্বীপের জনগণ। সুদীর্ঘ কাল থেকে কাঠের বোট, ছোট ইঞ্জিন নৌকা ও সাম্পান দ্বারা শত শত যাত্রী উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করে আসছিল। গত এক যুগ পূর্ব থেকে এখানে স্পিডবোট দ্বারা যাত্রী পারাপার করে আসছে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল থেকে এই ঘাটে মুক্ত হয়েছে বিআইডব্লিউটিএ–এর গণপরিবহন আধুনিক সি–ট্রাক। এই সি–ট্রাক প্রতিদিন কক্সবাজার–মহেশখালী উভয় ঘাট থেকে তিন ট্রিপ করে মোট ৬ ট্রিপ যাত্রী পারাপার করছে। এছাড়া দেড় শতাধিক স্পিডবোটসহ নৌযানগুলোতে প্রতিদিন অন্তত ১০/১৫ হাজার যাত্রী পারাপারে ব্যবহৃত হয় এই জেটি। কিন্তু দ্বীপটিতে দীর্ঘ ২৭ বছর পূর্বে নির্মিত জেটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পতিত হওয়ায় যাতায়াতের সময় যাত্রীদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষত, বর্ষাকাল ও দুর্যোগপূর্ণ আওহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকলে এ নৌপথ দিয়ে পারাপারের সময় মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

এলজিইডির মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী বনি আমিন জানান, কঙবাজার–মহেশখালী ঘাটে পুরাতন জেটিটি জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় পর্যটক ও যাত্রীদের সুবিধার্থে আরেকটি নতুন জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন জেটির দৈর্ঘ্য ৭০০ মিটার ও প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার। ৭০০ মিটারের জেটির মধ্যে ৩০০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই নির্মাণকাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

এলজিইডি সূত্র জানায়, আধুনিক সুযোগ–সুবিধা ও পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে মহেশখালীর গোরকঘাটা ঘাটে আধুনিক মানের একটি জেটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ জেটিতে থাকবে দুই লেইনের যান চলাচল সড়ক, বিশ্রামাগার, প্রার্থনা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য জায়গা এবং টয়লেটসহ বিনোদনের ব্যবস্থা।

মহেশখালী পৌরসভার তথ্যমতে, গোরকঘাটার পূর্বপাশে ১৯৯৮ সালে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০০ মিটার দীর্ঘ একটি জেটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ২৭ বছরেও জেটিতে বড় ধরনের কোন সংস্কার কাজ হয়নি। তবে মহেশখালী পৌরসভা ইতিপূর্বে কয়েকবার সংস্কার কাজ করেন। মহেশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, বর্তমানে জেটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। ভেঙে গেছে দুই পাশের রেলিং। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জেটির ওপর দিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে নতুন করে আরেকটি জেটি নির্মাণ করা হচ্ছে।