ফুলকপি চাষে কৃষকের হাসি

রাঙ্গুনিয়ায় ফুল কপি চাষ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন চাষিরা। তাই এবার আগাম লাগানো ফুলকপি-বাঁধাকপির যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। রাঙ্গুনিয়ার পোমরা, পারয়া রাজানগর, দক্ষিণ রাজারগর, পৌরসভার ঘাটচেক দাঙ্গার চর এলাকায় ব্যাপকভাবে ফুল কপি চাষ হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার ফুল কাপির চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে। রাঙ্গুনিয়ায় ফুলকপি চাষিদের মুখে এবার হাসি ফুটেছে। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির এক অনাবিল সুখে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এবার উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ফুল কপি লাগানো নিয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এখান থেকে ফুলকপি নেওয়ার চন্য চট্টগ্রামের পাইকারী সবজি বিক্রেতারা সবজির মাঠ থেকে বিভিন্ন যানবাহন যোগে নিয়ে যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও ফুলকপিতে কোনো রোগবালাই না হওয়ায় এবারও ভালো ফলন ও লাভের আশা করছেন তারা। ফুল কপি চাষে বিঘাপ্রতি মোট খরচ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ভালো দাম পেলে খেত থেকে পাইকারি দরে বিঘায় এক লাখ টাকার কপি বিক্রির আশা চাষিদের। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এবার ব্যাপকভাবে চোখে পড়েছে আগাম ফুলকপি চাষের চিত্র। বাম্পার ফলনের সঙ্গে আশা কাক্সিক্ষত দরের। এ ধারা অব্যাহত রাখা গেলে এ অঞ্চলে কৃষিতে ক্ষতি পুষিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন কৃষক। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াছ জানান, বিভাগের হিসেবে চলতি বছরে উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে কপির চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে। এদিকে কৃষকের ফুলকপির ভালো ফলন পেতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাই কয়েক বছরের লোকসান পুষিয়ে এবারও লাভের মুখ দেখতে আশাবাদী চাষিরা। সরেজমিনে উপজেলার পোমরা হাজি পাগা গ্রামের মাঠে পড়ন্ত বিকালে ফুলকপি চাষি কুতুব উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। অন্যান্য সবজি চাষের চেয়ে ফুল কপি চাষ কিছুটা ব্যাতিক্রম।
আমি গতবারে চেয়ে দ্বিগুণ পরিমানে ফুলকপি চাষ করেছি। আশাকরি ফলন ভাল হেয়েছে। যা খরছ হয়েছে তা উঠে আসবে। এবং লাভের মুখ দেখব। পারয়া ইউনিয়নের কাটাথালী গ্রামের আমির হোসেন (৫৪) জানান, বিল জুড়ে ফুলকপির সারি। তার মুখে স্বস্তির হাসি। অন্যান্য সবজি চাষের সাথে এবার আমি এক খানি জমিতে ফুল কপির চাষ করেছি। ভালই হযেছে। আশা করি ফুলকপির দাম পাব। বাজারে অনেক আগে ফুলকপি বের হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুজ্জামান জানান, এ উপজেলায় কৃষকের মাঝে ফুলকপি চাষের আগ্র্র্র্রহ বাড়ছে। আগামী বছরে ব্যাপকভাবে ফুলকপি চাষ করবে কৃষকরা। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার জানান, আমরা মাঠ পর্যায়ে চাষিদের ফুল কপির ভালো ফলনের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। বিশেষ করে কোন ধরনের পরিচর্যা নিতে হবে, কখন সেচ, সার ও ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। সার্বক্ষণিকভাবে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পরামর্শ পেয়ে কৃষকও দারুণ খুশি।