টানেল পার হয়ে আনোয়ারা হাজীগাঁও গ্রাম। ওয়ান সিটি টু টাউন কিংবা কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে নতুন শহরের যে স্বপ্ন তার খুব কাছেই হাজীগাঁও শোলকাটা এস জে নিজাম উচ্চ বিদ্যালয়ের অবস্থান। চেরাগের নিচে অন্ধকারের মতোই এই বিদ্যালয়ের সবকিছুতে ‘নাই নাই’ অবস্থা। নেই পর্যাপ্ত শ্রেণী কক্ষ, বিজ্ঞানাগার, আইসিটি ল্যাব, ছাত্রী মিলনায়তন। শূন্য রয়েছে ৬ শিক্ষকের পদও। পাশে সুন্দর সড়ক, সবুজ পরিবেশে মন জুড়ালেও বিদ্যালয় ভবনের বিশাল ফাটলে মন খারাপ হয়ে যায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। প্রয়োজনীয় একাডেমিক ভবন না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পুরনো ফাটল ধরা ভবনে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। হাজীগাঁও, শোলকাটা, বেলচুড়া ও ঝিওরীসহ এ এলাকায় কোন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় ১৯৯৫ সালে আনোয়ারা–কর্ণফুলী আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এস জে নিজাম উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
এলাকাবাসী জানায়, ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে বিদ্যালয়টি নিম্মমাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়। এর দুই বছর পর ২০০৪ সালে মাধ্যমিক এমপিওভুক্তি পায়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ভৌত বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, আইসিটি, হিন্দু ধর্ম, গার্হস্থ্য অর্থনীতি পড়ানোর মত কোন শিক্ষক নাই। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে ৬ শিক্ষকের পদ শূন্য। বিদ্যালয়ে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন মাত্র ১১ জন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ বিদ্যালয়টি বিএনপির সাবেক এমপি প্রতিষ্ঠা করার কারণে বিগত আওয়ামী লীগ শাসনের ১৫ বছরের বেশি সময়ে সব ধরনের সরকারি বরাদ্দ থেকে বিদ্যালয়টি বরাবরই বৈষম্যের শিকার হয়েছে। অথচ উপজেলার ২৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে এস জে নিজাম উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়া সব বিদ্যালয়ে গত সরকারের আমলে একাধিক ভবনসহ প্রাতিষ্ঠানিক যাবতীয় সরকারি সুযোগ সুবিধা লাভ করে। তারপরও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে এই বিদ্যালয়। ২০১৪ সালে ৫২ জন পরিক্ষার্থী এসএসসিতে অংশ নিয়ে শতভাগ পাশের কৃতিত্ব অর্জন করে। এরপর প্রতিবছরই পাশের হার ছিল ৮০ শতাংশের বেশি। সারা উপজেলায় ফলাফলের বিচারে প্রতিবারই ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে বিদ্যালয়টি ।
শ্রেণীকক্ষ স্বল্পতা থাকায় ফাটল ধরা জরাজীর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়ে নেই কোন আলাদা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বিজ্ঞানাগার, আইসিটি ল্যাব, লাইব্রেরি, ছাত্রী মিলনায়তন। খেলার মাঠ থাকলেও সেটি খেলার উপযোগী নয়। বিদ্যালয়ের জন্য ১০০ শতক জমি থাকলেও নির্মিত হয়নি বাউন্ডারি ওয়াল। ফলে মাঝে মধ্যে হাতির আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের স্থাপনা।
স্থানীয় অভিভাবক আবদুর রহিম জানান, এস জে নিজাম স্কুলের সাথে উপজেলার দক্ষিণ বন্দর ও পীরখাইনে আরো দুটি স্কুল হয়েছে। সেগুলোর আধুনিক ভবন, অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেখলে বুঝা যায়, কতটুকু উপেক্ষা আর বঞ্চনার শিকার এই স্কুলটি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রউপ জানান, সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক মানসম্মত ভবন আছে। কিন্তু বার বার বঞ্চিত। বর্তমানে বিদ্যালয় ভবনের দেওয়ালে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাটল। ঝুঁকি নিয়ে আমাদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। জরুরি ভিত্তিতে একটি একাডেমিক ভবনের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে আকুল আবেদন জানান তিনি।
