কোনোভাবেই কমছে না ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, দেশের ৫৭টি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ এখন ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি। যা মোট ঋণের সাড়ে ১০ শতাংশের বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবে ঋণ দেয়াই খেলাপি ঋণের মূল কারণ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গেলো বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সবগুলো ব্যাংক মিলে ঋণ দিয়েছে সাত লাখ ৫২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি। শতাংশের হিসেবে যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ছয় সাত ভাগ।
খেলাপি ঋণের দৌঁড়ে এগিয়ে সরকারি ব্যাংকগুলো। সরকারি ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩৮ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা; যা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ২৯ দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ। এছাড়া কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পাঁচ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। আর দেশীয় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৩৩ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণ দুই হাজার ২৯৮ কোটি টাকা।
বিশ্লেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণ ফেরত দিতে গ্রহীতাদের ওপর জোরালো চাপ না থাকলে অনেকে তা ফেরত দেয়ার তাগিদবোধ করেন না। ফলে খেলাপি ঋণ বাড়ে।
বেসরকারি সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, খেলাপি ঋণ পুরো ব্যাংক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার পাশপাশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নের লাগাম টেনে ধরছে।
এজন্য খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া জোরালো করার পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে বলে জানান তিনি।