স্যাটেলাইট ক্যাবল ব্যবসার দ্বন্দ্ব, গুলিতে ব্যবসায়ী নিহত

চট্টগ্রামে স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরের ব্যবসার দখল নিয়ে গোলাগুলিতে ফরিদুল ইসলাম ফরিদ (৩৮) নামে একজন নিহত হয়েছেন। ফরিদ যুবলীগের রাজনীতি করতেন।
শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর চকবাজার থানার ডিসি রোডে এ গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ডিসি রোডে ক্যাবল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ আছে কেসিটিএন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের। এর মালিক স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত বাদশা। ওই এলাকার বাসিন্দা কথিত আওয়ামী লীগ নেতা মো. মুছা এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাচ্ছিলেন। মূলত এর থেকে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর আগেও কয়েকবার বাদশার বাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকাল থেকে আকস্মিকভাবে নগরীর দিদার মার্কেট এলাকা থেকে ডিসি রোডের দিকে ক্যাবলের টানা শুরু করে মুছার লোকজন। মিঠু নামে দিদার মার্কেট এলাকার এক ডিশ ব্যবসায়ী মূলত মুছাকে সহযোগিতা করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রমতে, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অনুমোদনবিহীন এই ক্যাবল টানার কাজ বন্ধ করে দেন। দুপুরে জুমার নামাজের পর আবারও কাজ শুরু হয়। দেওয়ান বাজারের ছাত্রলীগ নামধারী রাসেল-ফয়সাল গ্রুপের উঠতি কিশোর-তরুণরা এ কাজে সহযোগিতা করছিলেন।
খবর পেয়ে বাদশা’র লোকজন তাদের বাধা দেয়। এর জের ধরে ডিসি রোডে মিয়ার বাপের বাড়ির সামনে গোলাগুলি শুরু হয় দুইপক্ষে। স্থানীয় মহল্লা সর্দার কমিটির সভাপতি হিসেবে ফরিদ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বাদশার পক্ষ হয়ে। তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরিদকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফরিদের মেয়ে জারাহ বলেন, নামাজ পড়ে এসে আব্বু বাসায় ভাত খেতে বসেছিলেন। এসময় ফোন পেয়ে আব্বু দ্রুত বেরিয়ে যান। পরে গোলাগুলি শুরু হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, ‘ডিশ ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। ফরিদ এক গ্রুপের পক্ষে ছিল। মুছা এবং ফয়সাল নামে দুজনের তথ্য পেয়েছি তারা আরেক গ্রুপের। আমরা তদন্ত করে দেখছি।’
ফরিদ চকবাজার থানার চান মিয়া মুন্সী লেইনের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে। তিনি চকবাজার ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।