সৌম্য-ইমরুলের রেকর্ড জুটি

58

যে দলে রয়েছে ইমরুল কায়েসের মতো ধারাবাহিক পারফরমার, সেই বাংলাদেশ দলকে এখন হারানোর স্বপ্ন দেখা বেশ কঠিনই এই জিম্বাবুয়ের জন্য। সেটি পারেও নি। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে নিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। গতকাল সিরিজের শেষ ম্যাচে আরো উজ্জ্বল ছিলেন ইমরুল, পেয়েছেন সঞ্চুরি। তার সঙ্গে দলে ফিরেই তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন সৌম্য সরকারও। এই দু’জন মিলে ২য় উইকেটে বাংলাদেশ পেয়েছে সর্বোচ্চ রানের জুটি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তো বটেই ঘরের মাটিতেই যা যে কোন উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি। আর তাতেই পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়ে ম্যাচটি জিতে নিয়েছে ৭ উইকেটে। শুধু এই ম্যাচেই নয়, সিরিজেই দাপট দোখিয়ে আরো একটি হেয়াইটওয়াশ উদযাপন করেছে বাংলাদেশ। গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ২৮৭ রানের লক্ষ্য তাদের ব্যাটে চড়ে ৪৭ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় মাশরাফির দল।

দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন ইমরুল কায়েস। এই হোম সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রান করেছিলেন ইমরুল। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে করেন তিনি ৯০ রান। নার্ভাস নাইনটিজে গিয়ে আউট হয়ে গেলেও গতকাল এই সিরিজের শেষ ম্যাচে ব্যাট হাতে আবারও দ্যুতি ছড়ান বাংলাদেশ দলের এই ওপেনার। আরেক ওপেনার লিটন শূণ্য রানে আউট হয়ে গেলেও ওয়ান ডাউনে নামা সৌম্য সরকারকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে রেকর্ড ২২০ রানের জুটি গড়ে জয়ের ভিত গড়েন ইমরুল। ৯২ বলে নয়টি চার ও ছয়টি ছক্কায় ১১৭ রান করে সৌম্য আউট হয়ে গেলেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন ইমরুল কায়েস। এরপর মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ৫৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান তিনি। সেঞ্চুরি পূর্ণ হয় তার ৯৯ বলে নয়টি চার ও একটি বিশাল ছক্কায়। এটি তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি।
তবে একটু তাড়াহুড়া করতে গিয়ে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গিয়ে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক মাসাকাদজার বলে চিগুম্বুরাকে ক্যাচ দেন ইমরুল। আউট হওয়ার আগে ১০টি চার ও দু’টি ছক্কায় ১১২ বলে ১১৫ রান করেন তিনি। এই সিরিজের তিন ম্যাচেই ৩৪৯ রান করেছেন। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার পাওয়া ইমরুলের অবশ্য একটা আক্ষেপ থাকতেই পারে। তা হলো- সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস না করলে তিনিই হতেন দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান, যিনি পরপর তিন ম্যাচে তিনটি সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখাতেন! গতকাল সৌম্য ও ইমরুলের জোড়া সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বাংলাদেশ সাত উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সিরিজ জিতে নেয় ৩-০ তে। সর্বোচ্চ ১১৭ রান করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন সৌম্য। শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে মাঠ ছাড়েন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম (২৮) ও মোঃ মিঠুন (৭)। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতেই নিজেদের ২৩তম ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করেছিলো বাংলাদেশ। এই ম্যাচ জিতে আরও একটি হোয়াইটওয়াশ উদযাপন করেছে টাইগাররা। এই নিয়ে ১২তম হোয়াইটওয়াশের স্বাদ নিলো মাশরাফির দল। শেষ ধবলধোলাইয়ের স্বাদটিও এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই পেয়েছিলো বাংলাদেশ, ২০১৫/১৬ মৌসুমে।

এদিকে, জিম্বাবুয়ের সঙ্গে চলমান ওয়ানডে সিরিজটি ২-০ তে জয় সুনিশ্চিত হওয়ার পর নিয়ম রক্ষার শেষ ম্যাচে গতকাল একাদশ নিয়ে একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায় স্বাগতিক বাংলাদেশ দল। অলরাউন্ডার রাব্বি অভিষেক ম্যাচসহ দু’ম্যাচে ব্যাট ও বলে বাজে পারফর্ম করায় শেষ ম্যাচে তার জায়গায় সৌম্য সরকারকে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও একাদশে পেসার মোস্তাফিজের জায়গায় পেসার রনি এবং স্পিনার মিরাজের জায়গায় ব্যাটসম্যান আরিফুল হককে সুযোগ দেয়া হয়। এতে দলের বোলিং শক্তি কিছুটা খর্ব হয়। বিশেষ করে পেসার মোস্তাফিজ ও স্পিনার মিরাজ বিগত বেশ কিছুদিন ধরে দলের বোলিং ডিপার্টমেন্টকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। তারা দলে না থাকার সুযোগটি বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। গতকাল চট্টগ্রাম ভেন্যুতে এই সিরিজে তারা সর্বোচ্চ রান করেছে। অবশ্য জিম্বাবুয়ের পাঁচ উইকেটে ২৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ার ক্ষেত্রে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান উইলিয়ামসের ক্যারিয়ার সেরা সেঞ্চুরির রয়েছে অন্যন্য ভূমিকা। সেইসঙ্গে টেইলরের ৭৫ রান ও উইলিয়ামসের সঙ্গে তার ১৩২ রানের জুটিরও অবদান অনেক। ব্যাট হাতে সিকান্দার রাজা (৪০) ও মুরের (২৮) ভূমিকাও রয়েছে। শেষ পর্যন্ত উইলিয়ামস নিজের দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ার সেরা সেঞ্চুরি করে দলকে ৫ উইকেটে ২৮৬ রানের শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১৪৩ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ১২৯ রানে অপরাজিত থাকেন উইলিয়ামস। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের কাছে সাত উইকেটে হেরে যাওয়ায় ইমরুল ও সৌম্যও সেঞ্চুরির কাছে ম্লান হয়ে যায় জিম্বাবুয়ান ব্যাটসম্যান উইলিয়ামসের অপরাজিত এই সেঞ্চুরিটি।