শিল্পকলায় পর্দা নামলো তিনদিনব্যাপী ক্যালেন্ডার প্রদর্শনীর : জমকালো প্রদর্শনীতে স্থান পায় শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস -ঐতিহ্য, প্রকৃতি,পরিবেশের চিত্র

18

ক্যালেন্ডার শুধু দিন মাস গণনার নির্দেশক নয়। ক্যালেন্ডার হয়ে উঠছে শিল্প ও সংস্কৃতির বাহকও। ক্যালেন্ডারেই তুলে ধরা হচ্ছে সমাজ, সভ্যতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রকৃতি, পরিবেশ, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও উন্নয়নকে। ক্যালেন্ডারের এ ব্যপ্তি ও পরিধি তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন  রোববার ০৩  ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। তিনদিনব্যাপী এই ক্যালেন্ডার এক্সিভিশনে হয় বিভিন্ন ব্যাংক, সংস্থা, ও সংগঠনের সৃজনশীল ও নান্দনিক ক্যালেন্ডারের শৈল্পিক উপস্থাপনা।

বিভিন্ন ব্যাংক,বীমা, কর্পোরেট কোম্পানিসহ শতাধিক প্রতিষ্টানের ২০১৯ সালের ওয়াল ও ডেস্ক ক্যালেন্ডার প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে এ প্রদর্শনীতে। শিক্ষা, ইতিহাস ঐতিহ্য, প্রকৃতি পরিবেশ, সংস্কৃতি, ডিজাইন মোট ৫ ক্যাটাগরীতে সেরা ক্যালেন্ডার বাছাই করে পুরস্কৃত করা হয়। সেরা ক্যালেন্ডার বাচাইয়ে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রখ্যাত ডিজাইনার রওশনস বুটিকস ও কিডস ক্যাম্পের কর্নধার রওশন আরা চৌধুরী, ডিজাইনার আইভি হাসান ও শিল্পী খালিদ আহসান ও আজিজুল কদির। ৫ ক্যাটাগরীতে মোট ৮টি প্রতিষ্ঠানের ক্যালেন্ডারকে সেরা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সেরা ক্যালেন্ডার নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এলিট প্রেইন্ট, কেডিএস, সাইফ পাওয়ারটেক, মধুমতি ব্যাংক লি., বায়েজিদ স্টিল ইন্ডাস্টিজ লি., বিএনআইসি, গ্রিন ডেল্টা এবং আরএসআরএম। ১ম স্থান অধিকারী এলিট পেইন্ট এর পরিচালক রাহিল  আহমেদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট খলিলুর রহমান।

২০১৭ সালে ক্যালেন্ডার প্রদর্শনীতে বিজয়ী এনটিভি ও আরটিভিকেও পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, এনটিভির সিনিয়র সাংবাদিক আরিসআহমেদ শাহ, আরটিভির ব্যুরো প্রধান সরোয়ার আমিন বাবু। আরো উপস্থিত ছিলেন বিবআই এর পরিচালক পুরবী দাশ, সন্চালক দিলরুবা খানম, নওশীন আফসানা। এই প্রদর্শনীর আয়োজক শিল্পকলা সমীক্ষা সংগঠন সবুজ পাঠশালা, শৈল্পিক বাংলাদেশ ও পুরানা এবং ব্র্যান্ড প্রমোটর প্রতিষ্ঠান বিবিআই ও মিডিয়া স্কাই ।

এ ব্যতিক্রমী ক্যালেন্ডার প্রদর্শনীর অায়োজকরা বলেন, ক্যালেন্ডারের গুরুত্ব বর্ণনা করার মতো না। এমন কোনো ঘর ও অফিস নেই যেখানে ক্যালেন্ডার নেই। ক্যালেন্ডারের এ চাহিদার কারণে দিন দিন ক্যালেন্ডার প্রকাশে শৈল্পিক উপস্থাপনা নিয়ে চলছে বিভিন্ন গবেষণা। মূলত শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনাগুলোকে তুলে আনতেই আমরা ২০১৭ সাল থেকে ক্যালেন্ডার প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছি।

বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, সংগঠন বছরের শুরুতেই প্রকাশ করে ক্যালেন্ডার। সবার সৃষ্টি থাকে ক্যালেন্ডার কত বেশি সুন্দর, সৃষ্টিশীল ও নান্দনিক করা যায় সে দিকে। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বা সেবাকে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্টান ক্যালেন্ডারে শিল্প, ইতিহাস, ঐতিহ্যসহ জ্ঞানের নানা শাখার তথ্য তুলে ধরতে দেখা যায়। ঘরের দেয়ালে ক্যালেন্ডারটি কিভাবে সবার দৃষ্টি থাকবে সে প্রচেষ্টা থাকে সবার। অনেকে ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে তুলে ধরেন উন্নয়ন ও কার্যক্রমের চিত্রও। চমৎকার সব ছবির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় জ্ঞানমূলক নানা তথ্যও।