বিশ্বের একমাত্র হাতে লেখা পত্রিকা ‘দ্য মুসলমান’

5
বিশ্বের একমাত্র হাতে লেখা পত্রিকা ‘দ্য মুসলমান’

বিশ্বের একমাত্র হাতে লেখা পত্রিকা হলো ‘দ্য মুসলমান’। কম্পিউটার বা কোনও মুদ্রণযন্ত্র নয়, শুধু হাতে লিখে ১৯২৭ সালে যাত্রা শুরু হয় উর্দু ভাষার এই দৈনিকের। সৈয়দ আজমতউল্লাহ’র হাত ধরে ভারতের চেন্নাই শহর থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় পত্রিকাটি।

‘দ্য মুসলমান’র বর্তমান সম্পাদক সৈয়দ আরিফুল্লাহ জানান, তিন প্রজন্ম ধরে চলছে এই উর্দু দৈনিক। শুরু করেন তার দাদা সৈয়দ আজমতউল্লাহ। তার মৃত্যুর পর ২০০৮ সালে এর দায়িত্ব নেন তার বাবা সৈয়দ ফাজাউল্লাহ। বাবার পরে তার কাঁধেই এখন পত্রিকাটির দায়িত্ব।

তার মতে, সময় বদলালেও ‘দ্য মুসলমান’র ঐতিহ্য ও ধরনে কোনও পরিবর্তন হয়নি। এর মূল আকর্ষণ হলো অসাধারণ ক্যালিগ্রাফি। এতে খবর সাজানোর পাশাপাশি রঙ, তুলির বৈচিত্র্যে নানা ক্যালিগ্রাফি ফুটিয়ে তোলার কাজ করা হয়। রঙ আর বিভিন্ন কলম ও তুলি দিয়ে লেখা হয় শিরোনাম ও ছবির ক্যাপশন। তবে এখানে কোনও খবরেরই বাইলাইন নেই।

চার পাতার এই দৈনিকের সব খবর বাছাই করেন আরিফুল্লাহ। দুজন অনুবাদক খবরগুলো উর্দু ভাষায় লিখে দেন। অনুবাদের কাজ শেষে ক্যালিগ্রাফি ও লেখার কাজ শুরু হয়। মূল কপি তৈরি হয়ে গেলে দুপুর একটার দিকে প্রিন্টের মাধ্যমে বাকি কপিগুলো তৈরি হয়। সন্ধ্যার মধ্যে পত্রিকাটি পৌঁছে যায় প্রায় ২১ হাজার পাঠকের হাতে। প্রতিটি কাগজের দাম মাত্র ৭৫ পয়সা।

চার পাতার পত্রিকাটির প্রথম পাতায় থাকে দেশ ও বিদেশের খবর। দ্বিতীয় পাতাজুড়ে শুধু সম্পাদকীয়। পরের পাতা দুটিতে স্থানীয় খবর ও বিজ্ঞাপন। সম্পাদক আরিফুল্লাহ জানান, ব্রেকিং নিউজ সাধারণত এই পত্রিকায় থাকে না। কারণ বিস্তারিত খবর নতুন করে লিখতে গেলে অনেক সময়, পরিশ্রম ও লোকবলের প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, মূলত সমাজের নানা বিষয়ের ওপরই জোর দেয়া হয় এই দৈনিকে। ইসলাম ভিত্তিক খবর প্রথম পছন্দ হলেও সব ধরনের পাঠকের জন্যই খবর থাকে এখানে।

চিফ রিপোর্টার চিন্নাস্বামী বালাসুব্রামোনিয়ামের মতে, সোমবার ‘দ্য মুসলমান’একটু আলাদা হয়। এদিন কুরআন ও ইসলাম সম্পর্কিত খবরই প্রাধান্য পায়। দিল্লি, কলকাতা ও হায়দরাবাদের নানা জায়গায় এই পত্রিকার গ্রাহক ছড়িয়ে আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চেন্নাইয়ের ট্রিপলিকেন হাই রোডে দুটি দেয়াল পাখা, তিনটি বাল্ব এবং একটি টিউব লাইট দিয়ে সাজানো ছোট দুটি ঘরে কয়েকজন মানুষের নিরলস পরিশ্রমে দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে ‘দ্য মুসলমান’র। আরিফুল্লাহ’র বলেন, এই পত্রিকা কখনও থেমে থাকবে না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এর ঐতিহ্য একইরকম থাকবে। দেশের সর্বস্তরের পাঠকের কাছে খবর পৌঁছে দেয়াই এই পত্রিকার একমাত্র লক্ষ্য।