গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক আউটে ব্রাজিল

আকাশে শঙ্কার মেঘ কাটিয়ে দুর্দান্ত জয়ে নক আউট পর্বে জায়গা করে নিলো ব্রাজিল। এদিন নেইমার দুর্দান্ত খেললেও কপাল গুণে গোল থেকে বঞ্চিত হন। আগের ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি বিদায় নেয়ায় ব্রাজিল সমর্থকদের মনে শঙ্কা জেগে ওঠে। শেষ পর্যন্ত অনায়েসেই নক আউট পর্ব নিশ্চিত করে সাম্বার দেশ।

ম্যাচে নামার আগে সমীকরণ ছিল জয় কিংবা ড্র। যে কোন একটি হলেই হবে। তবে পরাজয়বরণ করা যাবে না। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে কোনো পরিবর্তন আনেননি ব্রাজিল কোচ তিতে।

pran বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় মস্কোর স্পার্তাক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়। ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় ব্রাজিল। খেলার ৯ম মিনিটেই মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মার্সেলো। তার জায়গায় এবারের আসরে প্রথমবারের মতো মাঠে নামেন ফিলিপে লুইস। ব্রাজিলের গুছিয়ে উঠতে তাই একটু সময় লাগে।

২৫ মিনিটে দারুণ একে সুযোগ পেয়েছিলেন নেইমার। বক্সের মধ্যে বল নিয়ে প্রবেশ করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তিনি বল দেন নেইমারকে। দারুণ এক শট নিয়েছিলেন পিএসজি তারকা। কিন্তু সার্বিয়া গোলরক্ষক স্টোজকোভিক ঝাঁপিয়ে পড়ে এই যাত্রায় দলকে রক্ষা করেন।

২৯ মিনিটে গ্যব্রিয়েল জেসুসের দারুণ একটি চেষ্টা ব্লক করে দেয় সার্বিয়া। ৩৪ মিনিটে আক্রমণ করে সার্বিয়া। দুজান তাদিকের কাছ থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের শট নেন আলেকজান্ডার মিতরোভিক। কিন্তু সেটা পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়।

এর দুই মিনিট পরই পওলিনহোর পা থেকে কাঙ্ক্ষিত গোল। সার্বিয়ার একটি আক্রমণ রুখে দিয়ে নিজেদের ডিফেন্সিভ থার্ড থেকে লম্বা ক্রস দেন কুতিনহো। সার্বিয়ার ডিফেন্সের ওপর দিয়ে উড়ে তাদেরই রক্ষণে এসে পড়লো। সেই ক্রসকে শুধু দৌড়ে এসে বার্সেলোনা তারকা পাওলিনহো পায়ের টোকা দিলেন। সেই টোকাতেই সার্বিয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে গিয়ে বল জালে জড়ায়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর ভালো সুযোগ এসেছিল ব্রাজিলের সামনে। লুইসের ফ্লিক থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়েছিলেন নেইমার। তবে নেইমারের শট উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।

প্রথমার্ধে গোল খাওয়ার পর কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিল সার্বিয়া। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে ধার বাড়ায় তারা। প্রথম দশ মিনিটে ভালো দুটি সুযোগও এসেছিল। কিন্তু মিরান্ডা, সিলভাদের গড়া রক্ষণে তারা প্রতিহত হয়েছে।

পরের কয়েক মিনিট অবশ্য সার্বিয়ার। ৫৩ থেকে ৬৫- এই ১২ মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে ইউরোপের দলটি। একের পর এক আক্রমণে সমতায় ফেরানোর দারুণ সুযোগও তৈরি করে তারা। ৬১ মিনিটে লিয়াইকের ক্রস ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করলেও ছুটে আসা বল সামনে থেকে হেড করেছিলেন মিত্রোভিচ। কিন্তু গোলবারের নিচে গোলরক্ষক না থাকলেও তার হেড হাঁটু দিয়ে প্রতিহত করেন ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা।

গোল না পেলেও ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোলে কিন্তু নেইমারের পরোক্ষ অবদান রয়েছে। ৬৮ মিনিটে তাঁর কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন থিয়াগো সিলভা। এর আগে গুঞ্জন উঠেছিল কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে সিলভার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেছেন নেইমার। এই গোলটা যেন মিলিয়ে দিয়েছে দুই সতীর্থকে।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় জয়ী নিয়েই মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের ব্রাজিল। আর এ জয়ে নক আউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো। আগামী ২ জুলাই সামারাতে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল।

এ জয়ের ফলে টানা ১৩টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে ব্রাজিল। আর ব্রাজিলের হয়ে খেলা ১৮ ম্যাচে ১৯ গেলে অবদান রেখেছেন নেইমার। যারমধ্যে ১০টি গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। সিলভার গোলটি এসেছে নেইমারের অ্যাসিস্ট থেকে। গেল বিশ্বকাপেও নেইমারের অ্যাসিস্ট থেকেই গোল পেয়েছিলেন সিলভা। আর পাউলিনহোর প্রথম গোলে অ্যাসিস্ট ছিল কুতিনহোর। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ৩টি গোলে (২ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট) অবদান রাখলেন বার্সেলোনার এই তারকা।